বাংলাদেশে কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই একজন ডাক্তার হওয়া গর্বের বিষয়। তবে অনেকেই জানেন না, ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি এবং ডাক্তারের ডিগ্রী সমূহ আসলে কীভাবে সাজানো হয় বা কোনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই লেখায় আপনি সহজ ভাষায় জানবেন, একজন ডাক্তার কীভাবে শুরু করেন, কোন ধাপে কোন ডিগ্রী অর্জন করেন এবং কিভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছান।
ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি?
ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী বলতে সাধারণত বোঝায় MD (Doctor of Medicine) বা PhD in Medical Science। তবে কোনটা “সর্বোচ্চ” তা নির্ভর করে আপনি কোন ফিল্ডে কাজ করছেন। যেমন, যদি আপনি ক্লিনিক্যাল চিকিৎসায় থাকেন তাহলে MD বা MS সর্বোচ্চ ধাপ হতে পারে। আর যদি আপনি গবেষণা বা শিক্ষকতা পেশায় থাকেন, তাহলে PhD বা Fellowship হতে পারে সবচেয়ে উচ্চস্তরের ডিগ্রী।
উদাহরণ: ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করে কেউ যদি পরবর্তীতে Cardiology-তে MD করে, সেটা তার ক্লিনিক্যাল ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী হবে।
ডাক্তারের ডিগ্রী সমূহ ধাপে ধাপে
১. SSC ও HSC পাস করার পর
মেডিকেল ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপ শুরু হয় SSC ও HSC (বিজ্ঞান বিভাগ) ভালোভাবে পাস করার মাধ্যমে। HSC-তে উচ্চ নম্বর পেলে আপনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২. MBBS – প্রথম ধাপ
এমবিবিএস (Bachelor of Medicine, Bachelor of Surgery) বাংলাদেশের ডাক্তারদের প্রধান বেসিক ডিগ্রী। এটি ৫ বছর মেয়াদী একটি কোর্স, যার শেষে ১ বছরের ইন্টার্নশিপ করতে হয়। এমবিবিএস পাস করলেই আপনি “ডাক্তার” উপাধি পেতে পারেন।
৩. BDS – দাঁতের ডাক্তারদের জন্য
ডেন্টাল বা দাঁতের চিকিৎসা পেশায় আসতে চাইলে আপনাকে BDS (Bachelor of Dental Surgery) করতে হবে। এটি দাঁতের ডাক্তার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ডিগ্রী।
৪. Postgraduate ডিগ্রী: MD, MS, FCPS
এমবিবিএস এর পর যাঁরা স্পেশালাইজেশন করতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে MD (মেডিসিন), MS (সার্জারি), FCPS (Fellowship) ইত্যাদি ডিগ্রী। এই ধরণের ডিগ্রী একজন ডাক্তারকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা Consultant বানায়।
বিদেশ থেকে ডাক্তারের উচ্চতর ডিগ্রী
অনেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশের সার্টিফিকেশন অর্জন করেন।
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কিছু উচ্চতর মেডিকেল ডিগ্রী হলো:
- MRCP (UK): মেডিসিনে স্পেশালিস্ট হওয়ার জন্য
- FRCS (UK): সার্জারির জন্য
- USMLE (USA): আমেরিকায় প্র্যাকটিস করতে
- AMC (Australia): অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল সার্টিফিকেট
এসব সার্টিফিকেট থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে ডাক্তার হিসেবে কাজ করা সহজ হয়।
উদাহরণ: বাংলাদেশের একজন এমবিবিএস ডাক্তার যদি MRCP করেন, তাহলে তিনি ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যে স্পেশালিস্ট হিসেবে চাকরি পেতে পারেন।
কোন ডিগ্রী কোন ক্ষেত্রে বেশি মূল্যবান?
সার্জারিতে MS, মেডিসিনে MD বেশি উপযোগী। গবেষণামূলক কাজে আগ্রহী হলে PhD বা MPhil ভালো বিকল্প। যদি আপনি রোগী দেখতে ভালোবাসেন তবে ক্লিনিক্যাল ডিগ্রী নেয়াই উত্তম। তবে শুধু ডিগ্রী নয়, অভিজ্ঞতাও একজন ভালো ডাক্তারের চাবিকাঠি।
ডাক্তারি ডিগ্রির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা
একজন ডাক্তার শুধু পঠনপাঠনে দক্ষ হলে চলে না।
নিম্নলিখিত দক্ষতাগুলোরও বিকল্প নেই:
- ভালো কমিউনিকেশন স্কিল
- রোগীর অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা
- ক্লিনিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স
- আপডেটেড মেডিকেল নলেজ
CME (Continuing Medical Education) কোর্সে অংশগ্রহণ করলে আপনি সবসময় আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে আপডেট থাকবেন।
বাংলাদেশে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ
বাংলাদেশে ৩৫টি সরকারি ও ৭০+ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ানো হয়। সরকারি কলেজে ভর্তি পেতে হলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। বেসরকারি কলেজে ভর্তির জন্য সাধারণত কিছু অতিরিক্ত খরচ লাগে।
বিদেশে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ
চীন, রাশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া সহ অনেক দেশে কম খরচে ডাক্তারি পড়া যায়। তবে বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে এদেশে চিকিৎসা করতে চাইলে BMDC অনুমোদন দরকার।
FCPS মানে কি?
FCPS হলো “Fellow of College of Physicians and Surgeons”। এটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যে বহুল পরিচিত একটি স্পেশালাইজেশন ডিগ্রী। এই ডিগ্রী পেলে আপনি নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের Consultant হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
আমার শেষ কথা
ডাক্তারের সর্বোচ্চ ডিগ্রী কি এবং ডাক্তারের ডিগ্রী সমূহ জানার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কোন পথটি আপনার জন্য উপযুক্ত। প্রতিটি ধাপে ধাপে কঠোর অধ্যবসায় এবং আন্তরিকতার প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা, ভালো ফলাফল ও দক্ষতা থাকলে আপনিও হতে পারেন একজন সফল চিকিৎসক।
বর্তমানে গরমের জন্য কোন ক্রিম ভালো হবে। বিস্তারিত জানার জন্য এখানে প্রবেশ করুন।